মুভি রিভিউঃ মেঘনাদবধ রহস্য

ভূতের ভবিষ্যত দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের নতুন একটি ধারা সৃষ্টি করেছিলেন ভারতীয় বাংলা পরিচালক অনীক দত্ত। নির্মান করেছে আশ্চর্য প্রদীপ, হালের বিতর্কিত ছবি ভবিষ্যতের ভূত। তবে আজ আলোচনা করবো এই গুণী পরিচালকের তৃতীয় চলচ্চিত্র মেঘনাদবধ রহস্য নিয়ে। কি? ছবির নাম শুনেই কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের কথা মনে পড়ে গেলোতো! ঠিক ধরেছেন, ২০১৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিটির গল্প মধুসূদন দত্তের মেঘনাদবধ কাব্যে থেকে অনেকটাই প্রভাবিত। সম্প্রতি নেটফিক্সের কল্যাণে ছবিটি দর্শনের সৌভাগ্য হলো।

সত্যজিৎ রায় ভক্ত বাঙ্গালী দর্শকেরা চলচ্চিত্রে ওয়ার্ড প্লে কিংবা রসময়তার খোঁজ পেয়েছিলো অনীক দত্তের প্রথম ছবিতে। তাইতো এরপর থেকে তার চলচ্চিত্রের ভক্ত দর্শক সৃষ্টি করতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। মেঘনাদবধ রহস্য ছবিতে চরিত্রাভিনয়ের জন্য তিনি বেছে নেন সব্যসাচী চক্রবর্তী, আবীর চট্টোপাধ্যায়, গার্গী রায়চৌধুরী, বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের মত শক্তিধর সব অভিনেতা-অভিনেত্রীকে। কাব্য নয়, রহস্য! ছবিটির ট্রেলার থেকে শুরু করে পোস্টার, সবখানেই রহস্য-জিনিসটির প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছেন ছবির পরিচালক। ছবিটি কোন খুনের গল্প কিংবা খুনিকে তাড়া কড়া কোন গোয়েন্দার গল্প নয়। তবে ছবির পরতে পরতে রয়েছে রহস্যের আড়ালে সুক্ষ বার্তা। ছবির কেন্দ্রী চরিত্র প্রবাসী কল্পবিজ্ঞান লেখক আসীমভ বোস (সব্যসাচী) ও তাঁর দ্বিতীয় পক্ষের অভিনেত্রী স্ত্রী ইন্দ্রাণী (গার্গী)-কে ছবির প্রথম দৃশ্যে দেখা যায় আসীমভের বইয়ের বঙ্গানুবাদ প্রকাশের অনুষ্ঠানে। কোলকাতায় কিছুদিনের জন্য বেড়াতে আসার সময়গুলোতে তাদের জীবনের নতুন মোড় ঘোরায় আসীমভের জন্মদিনে তার একটি মেঘনাদবধ কাব্য বই প্রাপ্তি। ছবিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন অসীমাভর প্রথম পক্ষের পুত্র ঋক (বিক্রম চট্টোপাধ্যায়), অসীমাভর সহকারী এলিনা (সায়নি ঘোষ), কাছের বন্ধু নিখিলেশ (কল্যাণ রায়চৌধুরী), আশ্রিত ভাগ্নে আছেন ধীমান (অনিন্দ্য পুলক), ইন্দ্রাণীর প্রথম পক্ষের মেয়ে আছে যার নাম গুলি, ইন্দ্রাণীর বিশেষ বন্ধু কুণাল সেন (আবির চট্টোপাধ্যায়)। বই প্রাপ্তির কিছুদিনের মধ্যেই অসীমাভ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান। বইটির সঙ্গে তার অন্তর্ধানের কি সম্পর্ক, জানতে হলে আপনাকে দেখতে হবে ছবিটি।

নকশাল আন্দোলন বহু চলচ্চিত্র সাহিত্যে প্রভাব ফেলেছে, এ ছবিটিও তার ব্যতিক্রম নয়। সত্তরের নকশালপন্থী ও সাম্প্রতিক মাওবাদীদের সেতুবন্ধন সম্বলিত এই কাহিনি ভবিষ্যতে টলিউডে রাজনৈতিক ছবির ধরনটাই হয়তো বদলে দেবে। ছবিটি মুক্তিও পেয়েছে নকশালবাড়ি আন্দোলনের সুবর্ণজয়ন্তীতে, যদিও পরিচালকের ভাষায় এটি সম্পূর্নভাবে কাকতালীয়।

মেঘনাদবধ রহস্যে সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন দোবজ্যোতি মিশ্র। ছবিতে অতি নিপুণ আঙ্গিকে ব্যবহার করা হয়েছে রবীন্দ্র সঙ্গীত যা মনকে স্নিগ্ধতায় ছুঁয়ে দেয়। এ ছবিতে অভিনয়ের সঙ্গে গানও গেয়েছেন ছবির প্রধান চরিত্ররা, অনেক অভিনেতার জন্য কতকটা প্রথমবার সিনেমায় গাওয়া। জন্মদিনের একটি দৃশ্যে রবীন্দ্রসংগীত গেয়েছেন সব্যসাচী, গার্গী, সায়নী, বিক্রম ও কল্যাণ।

থ্রিলার ও পলিটিকাল মেশানো ঘরানার ১২২ মিনিটের ছবিটি মগজাস্ত্রের প্রযোগে দেখলে ছবিশেষে বেশ দারুন একটা অনুভূতি হবে, এ কথা দিব্য করে বলে দেয়া যায়।

আর্টিকেলটি দৈনিক ভোরের কাগজে পূর্বপ্রকাশিত

লেখকের অনুমতি ছাড়া সাইটে ব্যবহৃত সকল প্রকার লেখা পুনঃপ্রকাশ বেআইনি। জরুরী যোগাযোগে ইমেইলঃ altamishnabil@gmail.com

আরো পড়ুন...