প্রফেসর শঙ্কু ও এল ডোরেডো!

গল্পের নাম ‘নকুড়বাবু ও এল ডোরেডো’। প্রফেসর শঙ্কুর পাড় ভক্তরা নিশ্চয়ই নাম শুনেই গল্পটি আন্দাজ করতে পারছেন! কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার ও সাহিত্যিক সত্যজিৎ রায় সৃষ্ট আত্মভোলা বৈজ্ঞানিক ও আবিষ্কারক প্রোফেসর ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কুকে চেনেনা এমন বাঙ্গালী সাহিত্যপ্রেমী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। শঙ্কুবাবুর আবিষ্কারের তালিকায় রয়েছে যে কোন কিছুকে নিশ্চিন্ন করে দেয়া অ্যানাইহিলিন পিস্তল, মুহূর্তে অসুখ সারিয়ে দেয়া মিরাকিউরল অসুধ, ক্ষুধা ও তৃষ্ণানাশক বড়ি বটিকা ইন্ডিকা, হিমশীতল এয়ারকন্ডিশানিং পিল, রোবু ও বিধুশেখর নামক দুটি রোবট সহ আরও কতকি! গল্পে গল্পে প্রফেসর শঙ্কুর সর্বমোট ৭২ টি আবিস্কাররের কথা জানা যায় যা ছিলো গোটা দুনিয়ার হিসেবে বিস্ময়।

বাংলা সাহিত্যে ১৯৬১ সালে ব্যোমযাত্রীর ডায়েরি গল্পের মাধ্যমে প্রথম আবির্ভাব হয় এ চরিত্রের। শঙ্কুবাবুর  বিশেষত্ব এই যে, তিনি মূলত পদার্থবিজ্ঞানী হলেও বিজ্ঞানের সকল শাখায় তাঁর জ্ঞান। যিনি ৬৯টি ভাষা জানেন, হায়ারোগ্লিফিক জানেন, হরপ্পা ও মহেঞ্জোদাড়োর লিপি তার দ্বারাই প্রথম পড়া হয়, যার আছে বিশ্বের সকল দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, ধর্ম, সামাজিক রীতি কিংবা বিশ্বসাহিত্য বিষয়ে তাঁর সম্যক ধারণা এমন মানুষকে নিয়ে আগ্রহ না জন্মালে চলে। জ্ঞানের সাগর এই ব্যক্তিটির নিবাস ভারতের তদনীন্তন বিহারের (অধুনা ঝাড়খণ্ড) গিরিডি শহরে। অকৃতদার এ বিজ্ঞানীর বাড়িতে তাঁর সঙ্গী বলতে নিউটন নামে ২৪ বছরের একটি পোষা বিড়াল ও তাঁর বিশ্বস্ত চাকর প্রহ্লাদ। তবে বাড়িতে লোক কম থাকলেও তার বন্ধু ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সাবাবিশ্বে, বিশ্বের নানান দেশের বিখ্যাত বিজ্ঞানীরা শঙ্কুবাবুর বন্ধু।

সেকালে কারিগরী দিকে পিছিয়ে থাকায় শঙ্কু চরিত্রকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মান করা থেকে বিরত থাকেন এর স্রষ্ঠা সত্যজিৎ রায়। তার ছেলে নির্মাতা সন্দীপ রায়ও অনেকটাই সে পথে হাটছিলেন। তবে কারিগরী ও বিগ বাজেট, এই দুই শঙ্কাই সম্ভাবনায় রুপ নেয় যখন ছবিটি প্রযোজনায় এগিয়ে আসেন শ্রী ভেঙ্কেটেশ ফিল্মস। ছবির গল্পের জন্য বেছে নেয়া হয়েছে ‘নকুড়বাবু ও এল ডোরেডো’কে। গল্পে উল্লেখিত নকুড়বাবুর ভবিষ্যৎ দেখতে পাওয়ার দক্ষতার সঙ্গে মিল পাওয়া যায় মার্ভেল কমিকস এর ডঃ স্ট্রেঞ্জ এর। তবে মজার ব্যাপার এই যে, ডঃ স্ট্রেজ সৃষ্টির আগে সত্যজিৎ রায় সৃষ্টি করে গেছেন নকুড়বাবুর এই চরিত্রকে। ছবিতে প্রফেসর শঙ্কুর চরিত্রে অভিনয় করছেন প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেমা খ্যাত ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়। আর ছবির প্রধান আকর্ষন নকুড়বাবুর চরিত্রে রয়েছেন শুভাশিস মুখোপাধ্যায়। ২০১৭ তে ঘোষণা দেয়া ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে চলতি বছরের বড়দিনের সময়টিতে। ইতিমধ্যে সত্যজিৎ রায়ের এ বছরের জন্মদিনেই উন্মুক্ত হলো ছবিটির ফাষ্ট লুক পোষ্টার। পরিচালক সন্দীপ রায়ের ভাষ্যমতে এটিই হতে যাচ্ছে তার ক্যারিয়ারের সবথেকে চ্যালেঞ্জিং কাজ।

গল্পের খাতিরে ছবিটির শুটিং স্পটের তালিকায় কলকাতা ও গিরিডির পাশাপাশি রয়েছে ইউরোপ ও ব্রাজিল। আশ্চর্য ক্ষমতার অধিকারী নকুড়বাবুকে নিয়ে শঙ্কুবাবুর সোনার শহর এল ডোরেডোতে অভিযানকে বড়পর্দায় দেখতে তাই ভক্তদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে আরও কয়েকটি মাস।

আর্টিকেলটি দৈনিক ভোরের কাগজে পূর্বপ্রকাশিত

লেখকের অনুমতি ছাড়া সাইটে ব্যবহৃত সকল প্রকার লেখা পুনঃপ্রকাশ বেআইনি। জরুরী যোগাযোগে ইমেইলঃ altamishnabil@gmail.com

আরো পড়ুন...