মুরাকামির নরওয়েজিয়ান উড

এমন কোন বইয়ের নাম যদি আমাকে বলতে বলা হয় যা নিজের পড়ে ভালো লাগেনি তবুও অন্যকে পড়তে রেকমেন্ড করবেন তাহলে সে তালিকায় প্রথমেই থাকবে ‘নরওয়েজিয়ান উড’ এর নাম!

জাপানি লেখক হারুকি মুরাকামির নাম আগেও শুনেছি। তবে তার সাহিত্যকর্মের সাথে পরিচিত হলাম এই বইটি দিয়ে। সম্প্রতি দুই সমগ্র রাতের চেষ্টায় বইটি পড়া শেষ হলো। ষাটের দশকের জাপান, প্রধান নগরী টোকিও শহরে জীবনচরিত জানা গেলো এ লেখায়। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র তরু ওয়াটানাবি ও তার দুই প্রেমিকা নাওকো ও মিডোরি। জীবনের ব্যাপারে যতখানি হতাশাগ্রস্থ নাওকো ঠিক ততখানিই পজেটিভ মিডোরি।

সম্পর্কের জটিলতা, তারুণ্য ও প্রেম, যৌনতা, একা থাকার বেদনা ব্যথাগুলো মুরাকামি ছাড়া আর মনেহয়না কেউ এমনভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারতো। তবে পাঠ শেষে গল্পের নায়ক তরুর প্রতি একটা অভিব্যক্তিই জন্মায়, আর তা হলো ‘তারুণ্যের শক্তির কি নিদারুন অপচয়’.. তবে বুকের ভেতর কষ্টের নদী নিয়ে কিভাবে বাঁচতে শেখা যায় সেটাও পাঠককে শেখায় তরু। গল্পের পরতে পরতে যৌনতা পাঠককে বিচলিত করে বৈকি, আমাদের সঙ্গে প্রাচ্যের সংস্কৃতির তফাতখানি মেনে নিয়েই বইটি পড়া উচিৎ। এটি রচনার মাধ্যমে লেখক মুরাকামি রীতিমত আন্তর্জাতিক তারকা ও বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা লেখক বনে যান। জাপানে নাকি এমন শিক্ষিত লোক খুঁজে পাওয়া দুস্কর যে এই বইটি পড়েনি। এসব বিষয় পাঠকের কাছে বইটি পড়তে চাওয়ার অন্যতম কারন হতে পারে।

জাপানি বইয়ের বঙ্গানুবাদের যে এডিশনটা পড়ছিলাম তা অনুবাদ করেছেন কৌশিক জামান ও প্রকাশিত হয়েছে বাতিঘর থেকে। এমন সাবলীল চলিত বাংলা ব্যবহারে ধন্যবাদ তার অবশ্য প্রাপ্য তবে বানানের ব্যাপারে অনুবাদকের আরো অনেক বেশী সচেতন হওয়া উচিৎ।

লেখকের অনুমতি ছাড়া সাইটে ব্যবহৃত সকল প্রকার লেখা পুনঃপ্রকাশ বেআইনি। জরুরী যোগাযোগে ইমেইলঃ altamishnabil@gmail.com

আরো পড়ুন...