কোয়ারেন্টাইনে দেখা কিছু সিরিজ-সিনেমা

কোভিড-১৯ এর প্রকোপের অস্থির সময়ে কোয়ারেন্টাইনে বাসায় বসে অন্যতম কাজ ছিলো সিনেমা-সিরিজ দেখা এবং সেগুলোর দর্শন অনুভূতি ফেসবুক টাইমলাইনে রেখে দেয়া। এমনই দেখা কিছু সিনেমা-সিরিজকে সংকলন করে আমার ব্লগের পাঠকদের জন্য নতুন একটি লেখা।

মিডনাইট চিলড্রেন (২০১২)

বর্তমান বিশ্বসাহিত্যের স্বনামধন্য লেখক সালমান রুশদির বুকার পুরস্কারপ্রাপ্ত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র “মিডনাইট চিলড্রেন”। ছবির পরিচালক এলিমেন্টস ট্রিলজি (ফায়ার, আর্থ, ওয়াটার) খ্যাত ইন্দো-কানাডীয় নির্মাতা দীপা মেহতা।

বর্তমান বিশ্বসাহিত্যের স্বনামধন্য লেখক সালমান রুশদির বুকার পুরস্কারপ্রাপ্ত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র “মিডনাইট চিলড্রেন”। ছবির পরিচালক এলিমেন্টস ট্রিলজি (ফায়ার, আর্থ, ওয়াটার) খ্যাত ইন্দো-কানাডীয় নির্মাতা দীপা মেহতা।

ছবির প্রধান চরিত্র সেলিম সিনাইয়ের পিতামহ থেকে শুরু করে পুত্র পর্যন্ত গল্পকথনের আড়ালে ছবিতে উঠে এসেছে বৃটিশ শাসন, ভারত-পাকিস্থান দেশভাগ, স্বাধীনতা পরবর্তী দুই দেশের বিভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, এমনকি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ (যদিও সেটিকে পাকিস্থানের সিভিল ওয়ার কিংবা পাক-ভারত যুদ্ধ হিসেবেই বেশী প্রকাশ করা হয়েছে)। পুরো ছবিতেই বিশেষভাবে আছে যাদুবাস্তবতা। ছবিতে রয়েছে শ্রেয়া সারান, সিদ্ধার্থ, রনিত রয়, অনুপম খের, শাবানা আজমি, রাহুল বোস সহ একঝাক তারকারা। ছবির পরিচালকের স্বভাব স্বরুপ ইংরেজি ভাষায় ভারতবর্ষের নাগরিকের জীবনালাপ ছবিটিকে কতটুকু বাস্তব রুপ দেয় সেটি নিয়েই আমার একমাত্র আপত্তি!

আমার রেটিং ৭/১০

পঞ্চায়েত (২০২০)

জনপ্রিয় স্বাধীন নির্মাতা সংস্থা দ্য ভাইরাল ফিভার (TVF) নির্মিত ওয়েব সিরিজ “পঞ্চায়েত”, অ্যামাজন প্রাইমে যার প্রথম সিজন মুক্তি পেয়েছে। এত প্রানবন্ত কাহিনী-অভিনয়, এক বৈঠকে কখন যে ৮টা এপিসোড শেষ হয়ে গেলো টেরই পেলামনা।

সদ্য পাশ করে ভারতের উত্তর প্রদেশের ফুলেরা নামের কোন এক অখ্যাত গ্রামের পঞ্চায়েত সচিবের চাকরী পাওয়া শহুরে ছেলে অভিষেকের চাকরিতে মানিয়ে নেয়ার গল্প। মূল চরিত্রে জিতেন্দ্র কুমার, এক সময় চাচা চৌধুরীর ভূমিকায় অভিনয় করা রঘুবীর যাদব যিনি এ সিরিজে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান পতি, বাধাই হো খ্যাত নিনা গুপ্ত যিনি এখানে সত্যিকারের পঞ্চায়েত প্রধান, অফিস সহকারীর ভূমিকায় চন্দন রায়।

Simplicity is the Ultimate Sophistication.. অনবদ্য, সত্যি মন ছুয়ে গিয়েছে..

রবিবার (২০১৯)

হঠাৎ দুজনের ১৫ বছর পর দেখা, সংসার এবং সম্পর্ক হারিয়ে ফেলা দু’জন মানুষের গল্প ছবিটি! একসময়ের কাছের দু’জন মানুষের কোন এক রবিবারে আবারো এক হওয়ার গল্প! চরিত্রদুটির নাম অসীমাভ (প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়) এবং সায়নী (জয়া আহসান)। ছবিটির কোন পরিনতি নেই, অনেকটা শেষ হয়েও হইলোনা শেষ।

এছাড়াও নেই কোন ফ্লাশব্যাক, চরিত্রগুলোর সংলাপে পুরনো ঘটনাকে দেখানোর সাহসীর সিদ্ধান্তের জন্য পরিচালক অতনু ঘোষের একটা ধন্যবাদ প্রাপ্য। কতকটা ঢিলেঢালা রবিবার সিনেমার গল্প চার-পাঁচ লাইনে ব্যাখ্যা করার নয়, গল্পটা অনুভবের..

চার্লি (২০১৫)

মালয়ালম ভাষার ছবি। এর শিল্প নির্দেশনা মন ছুঁয়ে দেয়। অভিনয়ে কেরালার স্টার অভিনেতা দুলকার সালমান, যার অভিনয় করা চরিত্রটির সঙ্গে আমাদের হুমায়ুন আহমেদের হিমুর বেশ মিল পেলাম। ছবিতে পেলাম পার্বতী তিরুবোতকে যাকে সম্প্রতি চিনেছি তার বলিউডে অভিনয় করা কারিব কারিব সিঙ্গেল ছবি দিয়ে।কাউকে না দেখে, কথা না শুনে তার কি এত অনুরক্ত হওয়া যায়? হয়তো যায়। তাইতো ছবির প্রধান অভিনেত্রী থেসা সেই অচেনাকে লোকটিকে খুঁজতে বের হয়ে পড়েন দূর থেকে দূরান্তরে।

স্নিগ্ধ একটা অনুভূতি নিয়ে সিনেমাটি দর্শন শেষে বোধ হয়, জীবনটা তো অন্যভাবেও দেখা যায়..

এক্সট্রাকশন (২০২০)

নেটফিক্সে মুক্তি পেলো ঢাকার উপর কাহিনী নির্ভর ছবি.. তবে আর যাই হোক, ছবিতে দেখানো এই ঢাকা কোনভাবেই আমাদের ঢাকা নয়! ছবিটা হলিউডের হলেও অনেকটা তামিল-তেলেগু মারদাঙ্গা ঘরানার। একজন স্ট্যান্ট ডিরেক্টর পুরো ছবির পরিচালকের ভূমিকায় নামায় এমনটা ঘটতেই পারে। ঢাকায় আটকে রাখা ভারতীয় ব্যবসায়ীর অপহরন করা ছেলেকে মার্সেনারি দিয়ে উদ্ধারের গপ্প! তবে মন্দের ভালো, অ্যাভেঞ্জার্সের পর বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সিনেমায় দেখানোটা চলমান রইলো। এরপর হয়তো দেশের কোন উঠতি তারকাকে হলিউডের কোন অভিনেতার সঙ্গে ভিডিও চ্যাটে বলতে হবেনা, ইউ নো বাংলাদেশ? রিয়েলি!

এর বাইরে এই সিনেমা নিয়ে আর কিছু বলার নেই..

কারওয়া (২০১৮)

এমন অস্থির সময়ে হালকা মেজাজের যেকোন ছবি মনে প্রশান্তি আনে। রোড ট্রিপ আমার অন্যতম পছন্দের জনরা। ‘কারওয়া’ শব্দের মানে ক্যারাভ্যান, ছবিটি অভিনেশ (দুলকার সালমান) নামের এক জীবনে অখুশি বান্দার পিতৃবিয়োগ, লাশ বিভ্রাট এবং সেই লাশ আনতে একটি ক্যারাভ্যান নিয়ে প্রায় সমগ্র দক্ষিণ ভারত সফরের গল্প। সফরসঙ্গী দুই মেরুর দুজন লোক শওকত (ইরফান) ও তানিয়া (মিথিলা পাল্কার)।

ছবির একটি সংলাপ মনে দাগ কেটে নেয়া, “যতদিন একটি সন্তান বুঝতে পারে তার বাবা সঠিক ছিলো ততদিনে সে নিজেই একজন সন্তানের বাবা হয়ে যায় যে সন্তানটি ভাবে তার বাবা ভুল”!

হাসমুখ (২০২০)

নেটফিক্সে সদ্য মুক্তি পাওয়া ভারতীয় ওয়েব সিরিজ। খুনি নাকি কমেডিয়ান, কোন পরিচয়টি ছোট শহর থেকে মুম্বাইতে উঠে আসা জনপ্রিয় শো কমেডি বাদশাহোর প্রতিযোগী হাসমুখের সঙ্গে যায় সেটা দর্শকরাই নির্ণয় করবেন। প্রতিটি জমজমাট শো এর জন্য তার প্রয়োজন একটি করে খুন, কিন্তু কেন!

রহস্যটা সিরিজেই মিলবে। কোন এক অজানা কারনে বীর দাসকে সেই দিল্লি বেল্লি ছবি থেকেই ভালোলাগে। তাই এই সিরিজটিও মন্দ লাগলোনা..

উস্তাদ হোটেল (২০১২)

কোয়ারেন্টাইন সময়ে দেখা দ্বিতীয় মালায়ালাম ভাষার ছবি। খাদ্য দিয়ে পেট ভরানোতো সহজ, কিন্তু মন ভরানো? উস্তাদ হোটেলের কাহিনী রান্না দিয়ে এক বৃদ্ধ রেস্তোরা মালিকের শহরের মানুষদের মন ভরানোর গল্প। ছবিটা উচ্চাভিলাষী এক বাবার নিয়ম ভাঙ্গতে যাওয়া ছেলেরও গল্প। সাধারনত মালায়ালাম সিনেমার হিন্দী ডাবিং না বেরুলেও এই ছবিটি হিন্দী ভাষাতেও মিলবে..

উস্তাদ হোটেল দেখা শেষে রান্না বিষয়টির প্রতি আলাদাভাবে আপনার একধরনের মমত্ববোধ জন্মাবে এতে কোন সন্দেহ নেই।

স্ত্রী (২০১৮)

“O Stree, come tomorrow”

ভারতের মধ্যপ্রদেশের চান্দেরী শহরের এক কল্পকথা অবলম্বনে নির্মিত সিনেমা “স্ত্রী”। ভৌতিক এক গল্পের দারুণ রম্য সংস্করন। ২৩ কোটি বাজেটের ছবি ব্যবসা করেছে ১৮০ কোটির অধিক। আমাদের গ্রামে গঞ্জেও এমন কতশত গল্প লুকিয়ে আছে যা দিয়ে দূর্দান্ত সব সিনেমা বানানো সম্ভব।

পরবর্তী পর্বের জন্য মুখিয়ে আছি।

দ্বিতীয় পুরুষ (২০১৯)

পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের সেই ‘অটোগ্রাফ’ সিনেমা থেকে ভক্ত গুণমুগ্ধ আমি। সৃজিত যে থ্রিলারে সিদ্ধহস্ত তা তিনি জানান দিয়েছিলেন শুরুর দিকের ‘বাইশে শ্রাবণেই’। বহুদিন পর ছবিটির সিক্যুয়েল ‘দ্বিতীয় পুরুষে’ তিনি আবারো বাজিমাত করলেন। বাংলা ছবিতে এমন টুইষ্ট, ভাবা যায়! ছবিটা বাইশে শ্রাবণকে ছাড়িয়ে না গেলেও মন্দ নয় মোটেও..

গল্পের ভিলেন খোকার চাইনিজ খাদ্য প্রীতি দেখে চলচ্চিত্রটি দর্শনের পর তখনি বাইরে কোথাও দিয়ে অর্ডার দিতে ইচ্ছে হচ্ছিলো একপ্রস্থ চিকেন চাওমিন আর চিলি ফিশ!

পিস হ্যাভেন (২০১৫)

মৃত্যুচিন্তায় মগ্ন তিন সত্তরউর্দ্ধ বুড়োকে নিয়ে আদর্শ ডার্ক কমেডি গল্প। পিস হ্যাভেন একটি মাঝারি মানের নির্মান নিয়ে কাহিনী আর অভিনয়ের গুণে উৎরে যাওয়ার গল্প! সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অরুণ মুখোপাধ্যায়ের মত অভিনেতা ছিলো যে ছবিতে।

মাসান (২০১৫)

ছবির নামের অর্থ শ্মশানঘাট, গল্পের প্রধান চরিত্রগুলো যেন এর সাথে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে। দুটি গল্পের সমান্তরাল উপস্থাপনা, শেষে গিয়ে একদিকে মিলে যাওয়া। কোন এক বিশেষ কারণে ছবিটা শেষে গিয়ে মনে গাথলোনা। হয়তোবা নির্মাণের গাথুনি কিংবা উদ্দেশ্যহীন সমাপ্তির কারণেই..

কোটা ফ্যাক্টরি (২০১৯)

দ্য ভাইরাল ফিভার (TVF) এর অন্যতম সেরা ওয়েব সিরিজ প্রযোজনা। সিরিজটি ভারতের সেরা প্রকৌশলী তৈরির কারখানা IIT এর ভর্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিতে নামতে ১৬ বছরের ছাত্র বৈভবের ভারতের মধ্যপ্রদেশ থেকে রাজস্থানের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং এর শহর কোটায় আসার গল্প। অচেনা শহরেও তার ভাগ্যে জুটে যায় মিনা ও উদয়ের মত নিঃস্বার্থ বন্ধু আর জিতু ভাইয়ার মতো সেরা একজন মেন্টর। শুভ মঙ্গল-২ কিংবা পঞ্চায়েত ওয়েব সিরিজে অভিনয় করা জিতেন্দ্র কুমার মূলত এই জিতু ভাইয়া চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমেই বলিউডের নজর কাড়েন। পাঁচ পর্বের সাদা-কালো এই ওয়েব সিরিজটি ইউটিউবে সহজলভ্য এবং দারুণভাবে উপভোগ্য।

অসুর (২০২০)

হিন্দু পুরাণ মতে সাত ঋষির সেরা কাশ্যপের ১৩ স্ত্রীদের মধ্যে দিতি এবং অদিতি সবচেয়ে প্রভাবশালী। উত্তর নক্ষত্রের প্রভাবে অদিতির গর্ভে জন্ম নেয় গুণবান পুত্র যাদের দেবতা বলা হয়। অন্যদিকে গ্রহের দোষে দিতির গর্ভে জন্ম নেয়া সন্তানতা হিংসা, ক্রোধ আক্রান্ত হয়ে জন্ম নেয় যাদেরকে অসুর বলা হয়। অসুর বনাম দেবতার লড়াইয়ে বিজয়ী হয় দেবতারা এবং অসুরদের ছুঁড়ে ফেলা হয় অন্ধকারে।

অনেকটা এই মূলধারাকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে ওয়েব সিরিজ ‘অসুর’ যেটি মুক্তি পেয়েছে ভিডিও ষ্ট্রিমিং সাইট Voot-এ। নেটফিক্স কিংবা অ্যামাজনের মতো জনপ্রিয় প্লাটফর্মের সিরিজ না হয়েও গল্প আর নির্মানের জোড়ে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে ক্রাইম থ্রিলার জনরার এই ওয়েব সিরিজটি। হলিউডে মিথলজি নির্ভর অনেক ক্রাইম থ্রিলার মুক্তি পেলেও এই প্রথম ভারতে এমন ধারার কাজ বেশ মুগ্ধ করলো। অসুর ছদ্মনামের এক সিরিয়াল কিলারের নিখুত কিলিং মিশন আটকে রেখেছে দর্শককে সেই টানা ৮ পর্ব ধরে। কিলারের বৈশিষ্ট্য হিসেবে পাওয়া যায় লাশের কাটা আঙ্গুল ও অসুরের মুখোশ। কমেডিতে থিতু হওয়া আরশাদ ওয়ার্সিকে সিবিআই সিরিয়র অফিসার ধনঞ্জয় রাজপুতের মতো সিরিয়াস চরিত্রে পাওয়া দর্শকদের জন্য আলাদা প্রাপ্তি। সিরিজটির অন্যতম প্রধান চরিত্র ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ নিখিল নায়ার (বরুন সবতি) যাকে খুনী তার টোপের বশে বিদেশ থেকে ভারত নিয়ে আসে। অসুর দেখে এটাও মনে হয়েছে, এমন সিরিজ নির্মানে আরো বাজেট দাবি রাখে। আর নির্মানে শেষদিকে কিছু বলিউডে ছাপ পরিহার করলে আমার মতে এটা আরো সেরা কাজের রুপ পেতো।

সেক্রেড গেম কিংবা লা কাসা দি পাপেলের পর এটি আমার দেখা তৃতীয় সিরিজ যা একটানা একদিনে দেখে শেষ করেছি (করতে হয়েছে)। দ্বিতীয় সিজনের অপেক্ষায়!

আমার রেটিং ৯/১০

কামিয়াব (২০১৮)

চলচ্চিত্রে পার্শ্ব অভিনেতারা অনেকটা আলুর মতোই। সব রান্নায় উপস্থিত থাকে, তবে তার উপস্থিতি কেউ আলাদাভাবে মনে রাখেনা। শেষ বয়সে গিয়ে সাইড অ্যাক্টর সুধীর এক ইন্টারভিউতে আবিস্কার করে IMDb বলে একটি ওয়েবসাইট আছে যেখানে সমস্ত অভিনেতা, চলচ্চিত্র কলাকুশলীদের কাজের তালিকা করা থাকে এবং সেই তালিকা মতে তার ক্যারিয়ারে অভিনীত সিনেমার সংখ্যা ৪৯৯টি। এটা দেখেই তার নিরস জীবনে আশার সঞ্চার হয়, সে নেমে পড়ে তার ৫০০তম সিনেমা অভিনয়ে রেকর্ড তৈরির খোঁজে। তবে শেষমেশ রেকর্ডটি করা সম্ভব হয় নাকি অধরাই রয়ে রায় তা সিনেমার শেষ বলে দেয়। অসাধারন মেদবর্জিত কাহিনীর একটা সিনেমা যাতে কোন ধরনের বানিজ্যিক ঘরানার সমাপ্তি দেয়া হয়নি। পরিচালক হার্দিক মেহতার নামটা এজন্য আলাদাভাবে খাতায় টুকে রাখলাম। ছবি দেখে মাঝে মধ্যে মনে হচ্ছিলো এটা অভিনেতা সঞ্জয় মিশ্রর নিজ জীবনেরই গল্প নয়তো? নেটফিক্সকে ধন্যবাদ, এভাবে মুক্তি না দিলে হয়তো ছবিটা অদেখাই থেকে যেতো!

ছবির শেষে বলিউডে কাজ করা পার্শ্ব অভিনেতাদের নাম ও ছবি দেখানো চলচ্চিত্রটিতে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।

ফ্যামিলি ম্যান (২০১৯)

ছিমছাম, অনবদ্য, অসাধারণ..
অনেকটা আন্ডাররেটেড এই অ্যামাজন প্রাইমের সিরিজটির ট্যাগলাইন হিসেবে বলা হয়েছে “Middle Class Guy, World Class Spy”। সিরিজটির সারমর্ম বোঝাতে এই লাইনটিই যথেষ্ট। মেদবিহীন ছিমছাম গল্পকথন এর সেরা উদাহরণ এই ফ্যামিলি ম্যান। আর সিরিজটির মুখ্য অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী অভিনেতা হিসেবে যে সর্বকালের অসাধারণদের একজন এটা প্রমাণ করতেও এই সিরিজটিই যথেষ্ট। আপাতদৃষ্টিতে পরিবার নিয়ে মধ্যবিত্তের দুষ্টচক্রে (!) নিরানন্দ জীবন পার করা শ্রীকান্ত তিওয়ারি (মনোজ) এর একজন ভারতীয় ন্যাশনাল ইনভেষ্টিগেশন এজেন্সির চৌকশ স্পাই হিসেবে কাটানো ক্যারিয়ার ততটাই রঙ্গিন। ইতিমধ্যে অনলাইনে সিরিজটির প্রথম সিজন মুক্তি পেয়ে গেছে যেখানে মিশন জুলফিকার নামের এক ধ্বংশযজ্ঞ থেকে দেশকে বাঁচাতে নিজের জীবন বিপন্ন করে শ্রী, শত্রু দমন মিশনে গোপনে এমনকি ঢুকে পরে পাশের দেশ পাকিস্থানে! সব মিলিয়ে রুদ্ধশ্বাস ১০ পর্ব। কাশ্মিরের সৌন্দর্য আরো ব্যতিক্রমভাবে দেখা হলো এই সিরিজের বদৌলতে..

সিরিজটি অনায়াসে ৮.৯/১০ দাবী করে, বাকি থাকা পয়েন্ট অ্যামাজনের মার্কেটিং পলেসির খামতির জন্য খোয়া গেলো।

এই সময়ে আপনার দেখা পছন্দের কিছু সিনেমা সিরিজের নাম জানতে চাই?

লেখকের অনুমতি ছাড়া সাইটে ব্যবহৃত সকল প্রকার লেখা পুনঃপ্রকাশ বেআইনি। জরুরী যোগাযোগে ইমেইলঃ altamishnabil@gmail.com

আরো পড়ুন...