ফাষ্ট ম্যান -চন্দ্রে মানবকাহন

মার্কিন নভোচারী ও বৌমানিক নিল আর্মস্ট্রং কি আদৌ চাঁদে প্রথম মানব হিসেবে পা রেখেছিলো, নাকি তার পুরোটাই ছিলো নাসার সাজানো। সেই ১৯৬৯ সাল থেকে চলে আসা বিতর্কে ঘি না ঢেলে আসল কথায় আসা যাক। সম্প্রতি মুক্তির জন্য হলিউডে নির্মিত হয়েছে বায়োপিক চলচ্চিত্র “ফার্ষ্ট ম্যান” যেটি মূলত নিল আর্মষ্ট্রং এর ব্যক্তিজীবনের উপর নির্মিত। জেমস আর হ্যানসেনের লেখা নিলের একমাত্র স্বীকৃত আত্মজীবনী “ফার্ষ্ট ম্যান, দ্য লাইফ অফ নিল এ. আর্মষ্ট্রং” থেকে ছবিটি নির্মিত হয়েছে। এর পরিচালনায় ছিলেন হুইপল্যাশ ও লা লা ল্যান্ড খ্যাত ড্যামিয়েন শ্যাজেল। ছবিটি কেন্দ্রীয় চরিত্রে এবারে তিনি ভরসা রেখেছেন রায়ান গসলিং এর উপর।

ব্যক্তি জীবনে কেমন ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং? তার জীবনীগ্রন্থটি বইটি লেখার সময় লেখক হ্যানসেন জানিয়েছিলেন, সাধারনের মধ্যে অসাধারন একজন মানুষ ছিলেন নিল। অর্থবিত্ত খুব একটা টানেনি তাকে। টিভি কিংবা মিডিয়ার সাক্ষাতকারেও তাকে খুব একটা দেখা যেতোনা। কারন তিনি সবসময় ভাবতেন, চাঁদে প্রথম মানব হিসেবে পা দেয়ার কৃতিত্ব, গৌরব কোনটাই তার একার না। বরঞ্চ কৃতিত্বটি তার পুরো দলের। চাঁদের এই অভিযানের কৃতিত্ব নিজে একার বলে দাবি করেননি কখনো, এজন্য মানুষ তাঁকে আরো শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।

১৯৩০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়া আর্মষ্ট্রং বংশানুক্রমিকভাবে স্কটিশ ও জার্মান। ১৯৩৬ সালে বাবার সাথে ক্লীভল্যান্ড ন্যাশনাল এয়ার রেস দেখতে গিয়ে নভোযান এর প্রতি প্রথম অনুরক্ততা শুরু হয়। মজার ব্যাপার হলো, মাত্র ১৬ বছর বয়সে গাড়ি চালাবার লাইসেন্স পাবার আগে ক্ষুদে বিমান চালাবার অনুমতিপত্র পান তিনি। ২৬ বছর বয়সে নিল আর্মস্ট্রং বিয়ে করেছিলেন জেনেট এলিজাবেথ শ্যারনকে। বিয়ের পর দুজনে ক্যালিফোর্নিয়ায় বাস করতে শুরু করেন। আর সেখানেই তিনি মার্কিন মহাকাশ মিশনের পাইলট হিসেবে যোগ দেন। সেই ক্যারিয়ারে রয়েছে তার শব্দের চেয়েও দ্রুতগতিতে রকেট প্লেন চালানোর রেকর্ড। বর্নাঢ্য এ চাকরী জীবনে তিনি কোরীয় যুদ্ধেও অংশ নেন। ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই ঘটান চাঁদে প্রথম মানব হিসেবে পা রাখার ইতিহাস। ২০১২ সালের ২৫ আগস্ট ওহাইও-এর সিনসিনাটিতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হন এই ঐতিহাসিক মানব।

একটা তথ্য বোধহয় অনেক পাঠকেরই অজানা, ১৯৬৯ সালের ২৭ অক্টোবর বিকেলে পূর্ব পাকিস্থানের তৎকালীন ঢাকা এয়ারপোর্টে অবতরণ করে চন্দ্র বিজয়ীদের বহনকারী বিমান। ভারতের মুম্বাই থেকে এসে সেই সময় তেজগাঁও বিমানবন্দরের টার্মিনাল বিল্ডিংয়ের ভিআইপি লাউঞ্জে সামান্য সময় অবস্থান করেন এই তিন নভোচারীরা। আর এদের সঙ্গে ছিলেন তাঁদের স্ত্রী। এক ঝাঁক সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ উপস্থিতিতে তাদের মোটর শোভাযাত্রা করে নিয়ে যাওয়া হয় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে। তবে এ তথ্য চলচ্চিত্রটিতে উল্লেখ পাবার কোনরূপ সম্ভাবনাই নেই।

যুক্তরাষ্ট্রে ছবিটি মুক্তি পাবে আসছে অক্টোবরে। এরমধ্যে ছবিটি নিয়ে সারা মার্কিনজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।  চাঁদে প্রথমবার অবতরণের সময় সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা ওড়ানো হয়েছিলো কিন্তু ছবিটিতে সেটা দেখানো হয়নি কেন তা নিয়ে দেশজুড়ে চলছে বিস্তর আলোচনা। অভিযোগ তুলে পরিচালক ও অভিনেতাকে বামপন্থী বলেও টুইট করেছেন কেউ কেউ। তবে এই বিতর্ক চলচ্চিত্রটির কোন পাবলিসিটি স্টান্ড কিনা তা জানা যায়নি।

ছবিতে রয়েছে নিলের ব্যক্তিজীবন, প্রথম অ্যাপোলো মানব মিশনে ইডি হোয়াইট এর দলের অকালমৃত্যু সহ আরো নানান দিক। ছবিটি ফিল্ম রিভিউভিত্তিক ওয়েবসাইট রটেন টমেটোসে ৮৮ শতাংশ রেটিং বহন করছে। গত আগষ্টে ছবিটি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয় এবং চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের থেকে ইতিবাচক সমালোচনা আদায় করেছে ছবিটি। ধারনা করা হচ্ছে ফার্ষ্ট ম্যান ব্যবসাসফল হওয়ার সাথে সাথে আসছে অস্কার, গোল্ডেন গ্লোবেও শক্ত অবস্থানে থাকবে ছবিটি।

আর্টিকেলটি দৈনিক ভোরের কাগজে পূর্বপ্রকাশিত

লেখকের অনুমতি ছাড়া সাইটে ব্যবহৃত সকল প্রকার লেখা পুনঃপ্রকাশ বেআইনি। জরুরী যোগাযোগে ইমেইলঃ altamishnabil@gmail.com

আরো পড়ুন...