হলিউড পরিচালকদের বানানো স্বল্পদৈর্ঘ্য

মার্টিন স্কোরসেজি, ডেডিড লিঞ্চ, টিম বার্টন কিংবা তারান্তিনো কি একদিনেই খ্যাতিমান পরিচালক হয়েছিলেন? বলা হয়ে থাকে পূর্নদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মানের বুনিয়াদ হিসেবে কাজ করে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। মোশন ভাস্কর ব্লগের পাঠকদের জন্য রইলো হলিউডের বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালকদের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে বানানো কিছু স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।

১। হোয়াট’স অ্যা নাইস গার্ল লাইক ইউ ডুইং ইন এ প্লেস লাইক দিস (১৯৬৩)

পরিচালকঃ মার্টিন স্কোরসেজি (গুডফেলাস, ডিপার্টেড, হুগো)

নিউ ইউর্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় মার্টিন স্কোরসেজি ভিয়েতনাম যুদ্ধ নিয়ে একটি আলোচিত স্বল্পদৈর্ঘ্য বানিয়েছিলেন যার নাম ‘দ্য বিগ শেইভ’। তবে স্কোরসেজির সবচেয়ে সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য হিসেবে ধরা হয় “হোয়াট’স অ্যা নাইস গার্ল লাইক ইউ ডুইং ইন এ প্লেস লাইক দিস” এই লম্বা নামের ছোট দৈর্ঘ্যের ছবিটিকে যেখানে দেয়ালে টানানো ছবির দিকে মগ্ন এক মানুষের গল্প বলা হয়েছে।

২। মাই বেষ্ট ফ্রেন্ডস বার্থডে (১৯৮৭)

পরিচালকঃ কোয়েন্তিন তারান্তিনো (পাল্প ফিকশন, কিল-বিল, জ্যাঙ্গো আনচেইনড)

“মাই বেষ্ট ফ্রেন্ড’স বার্থডে” নামের ৭০ মিনিটের ছবিটিতে তারান্তিনো লেখা ও পরিচালনা করার পাশাপাশি এতে অভিনয়ও করেছিলেন। ছবিটি নির্মিত হতে চার বছর সময় লেগেছিলো। তবে তারান্তিনোর দূর্ভাগ্য হলো, পুরো ছবিটির প্রায় অর্ধেক ফুটেজ এটি সম্পাদনার সময় আগুনে নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। সবশেষে গল্প পূনবিন্যস্ত করে ৩৬ মিনিট দৈর্ঘ্যে ছবিটি মুক্তি দেয়া হয়েছিলো।

৩। ভিনসেন্ট (১৯৮২)

পরিচালকঃ টিম বার্টন (অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড, এডওয়ার্ড সিজারহ্যান্ডস)

ফ্যান্টাসি ঘরানার বিজ্ঞ পরিচালক টিম বার্টনের শুরুর দিককার একটি কাজের নাম ভিনসেন্ট। স্টপ মোশন টেকনিক দিয়ে তিনি বানিয়েছিলেন ছয় মিনিটের এ হরর ছবিটি যেখানে কন্ঠ দিয়েছিলেন বিখ্যাত হলিউড অভিনেতা ভিনসেন্ট প্রাইস।

৪। দ্য ডিসিপ্লিন অফ ডি.ই (১৯৮২)

পরিচালকঃ গুন ভ্যান স্যান্ট (গুড উইল হান্টিং, মিল্ক, প্রমিসড ল্যান্ড)

সদা উচ্চাভিলাষী পরিচালক গুন ভ্যান স্যান্ট নির্মান করেছিলেন লেখক উইলিয়াল এস. বুরোগের গল্পে শক্তিশালী একটি সাদা-কালো ছবি যার নাম গুন ভ্যান স্যান্ট। বুরোগের গল্প নিয়ে ছবি নির্মানের জন্য তিনি টেলিফোন ডিরেক্টরি থেকে লেখকের ঠিকানা নিয়ে সোজা হাজির হয়েছিলেন তার অ্যাপার্টমেন্টে।

https://www.youtube.com/watch?v=9iyz7Tqi0vM

৫। লুক্সো জুনিয়র (১৯৮৬)

পরিচালকঃ জন লেসেটার (টয় স্টোরি, এ বাগস লাইফ)

জন লেসেটারের স্বল্পদৈর্ঘ্য লুক্সো জুনিয়র প্রথম সিজিআই অ্যানিমেটেড ছবি যেটি অস্কারের সেরা অ্যানিমেশন ছবি হিসেবে নমিনেটেড হয়েছিলো। ডেস্ক ল্যাম্প নিয়ে বানানো এ-ছবিটির সাফল্য দেখে মুভি স্টুডিও ‘পিক্সার’ রীতিমত এটিকে তাদের নিজস্ব লোগো বানিয়ে ফেলেছিলেন।

৬। সিক্স মেন গেটিং সিক (১৯৬৬)

পরিচালকঃ ডেভিড লিঞ্চ (ব্লু ভেলভেট, মুলোম্যান্ড ড্রাইভ, দ্য এলিফেন্ট ম্যান)

পরাবাস্তব ঘরানার বিখ্যাত পরিচালক ডেভিড লিঞ্চ তার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলো বেশ কিছু স্বল্পদৈর্ঘ্য নির্মানের মধ্য দিয়ে যার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয় “সিক্স মেন গেটিং সিক” ছবিটিকে।

৭। মে ডে-দ্য ক্রাম্বলিং অফ অ্যা ডকুমেন্টারী (১৯৮৭)

পরিচালকঃ কেভিন স্মিথ (ক্লার্কস, রেড স্টেট)

ট্রান্সসেক্সুয়াল পারফর্মার মে ডে এর উপর নির্মিত স্টুডেন্ট ডকুমেন্টারী যখন নির্মান শেষ করার আগেই ভেস্তে গেলো, পরিচালক কেভিন ও তার কো-ডিরেক্টর স্কট নতুন একটি আইডিয়া নিয়ে এলেন। ভিডিও ফুটেজগুলো নিয়ে তারা নতুন একটি তথ্যচিত্র বানালেন যেখানো দেখানো হলো তাদের মে ডে’র ডকুমেন্টারি নির্মানে কেন ব্যর্থ হলো।

৮। বটল রকেট (১৯৯৪)

পরিচালকঃ ওয়েস অ্যান্ডারসন (দ্য রয়েল টেনেবাউন্স, দ্য ফ্যান্টাসটিক মিষ্টার ফক্স, মুনরাইস কিংডম)

পরিচালক ওয়েস অ্যান্ডারসন বটল রকেট নামে একটি কমেডি ধাঁচের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মান করেছিলেন যার অনেক ফুটেজ পরবর্তীতে একটি পূর্নদৈর্ঘ্য ছবিতে ব্যবহৃত হয়েছিলো।

৯। ডুডলবাগ (১৯৯৭)

পরিচালকঃ ক্রিষ্টোফার নোলান (দ্য ডার্ক নাইট, ইনসেপশন, ইন্টারস্টেলার)

‘ফলোয়িং’ দিয়ে পূর্নদৈর্ঘ্য ছবি নির্মানের আগে নির্মাতা ক্রিষ্টোফার নোলান ‘ডুডলবাগ’ নামের একটি শর্টফিল্ম দিয়ে হাত পাকিয়েছিলেন।  পরাবাস্তব ঘরনার ছবিটিতে দেখানো হয়েছিলো এক যুবকের একটি বদ্ধ কামরায় ডুডলবাগ (এক প্রকার তেলাপোকাবিশেষ) ধরার প্রয়াস।

https://www.youtube.com/watch?v=-WhKt_CkXD0

১০। গাল্প (২০০১)

পরিচালকঃ জেসন রেইটম্যান (জুনো, আপ ইন দ্য এয়ার, ইয়ং অ্যাডাল্ট)

পরিচালক হিসেবে জেসন রেইটম্যানের বিচিত্র দৃষ্টিভঙ্গী প্রতিফলিত হয়েছিলো এ স্বল্পদৈর্ঘ্যটিতে। এক যুবক একদিন তার প্রিয় নোনাপানির মাছটিকে ভাসালেন স্বচ্ছ পানিতে। এরপর শুরু হলো মাছটিকে বাঁচানোর জন্য তার প্রাণান্তকর দৌড়ঝাঁপ।

লেখাটি মোশন ভাস্কর ব্লগে পূর্বপ্রকাশিত।

লেখকের অনুমতি ছাড়া সাইটে ব্যবহৃত সকল প্রকার লেখা পুনঃপ্রকাশ বেআইনি। জরুরী যোগাযোগে ইমেইলঃ altamishnabil@gmail.com

আরো পড়ুন...