বিদায় ব্যোমকেশ, বিদায়?

প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি লেখক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্র ব্যোমকেশ বক্সীর প্রথম আবির্ভাব ‘সত্যান্বেষী’ গল্পে। পেশায় ডিটেকটিভ হলেও নিজেকে সত্যান্বেষী বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন ব্যোমকেশ। ব্যোমকেশের সেরা বন্ধু ও লেখক অজিতের কলম দিয়ে কাহিনীগুলোকে শরদিন্দু বর্ণনা করেছেন। গোয়েন্দা এই সিরিজটির তৃতীয় প্রধান চরিত্রের আগমন ঘটে অর্থমনর্থম্‌ গল্পে, ‘সত্যবতী’ নামের মেয়েটির সাথে পরে গাটছড়া বাঁধেন ব্যোমকেশ। জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে বাংলা ভাষাভাষী পাঠকমহলে গোয়েন্দা গল্পে ফেলুদার পরেই যে নাম আসে তা হলো এই ব্যোমকেশ।
সেলুলয়েডে ব্যোমকেশকে নানা পরিচালক ও অভিনেতার হাত ধরে পর্দায় আসতে দেখা গেছে। সেই গোড়ার দিকে সত্যজিৎ রায়ের চিড়িয়াখানায় ব্যোমকেশ চরিত্রে কি দূর্দান্তই না ছিলো উত্তম কুমারের অভিনয়। এরপর একে একে অঞ্জন দত্ত, অরিন্দম শীলরা নিয়মিতভাবে পর্দায় নামিয়েছেন তাদের নিজ নিজ ব্যোমকেশকে। বলিউডেও হিন্দি ভাষায় ব্যোমকেশকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে ছবি যা পরিচালনা করেছেন দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এসব পরিচালকের প্রত্যেকের ব্যোমকেশেই একটি মিল বিদ্যমান ছিলো। অধিকাংশ ছবিতেই ব্যোমকেশকে পর্দায় দেখানো হয়েছিলো মধ্যবয়সী হিসেবে।
তবে এবারে এর ব্যত্যয় ঘটছে। বিদায় ব্যোমকেশ শিরোনামে দেবালয় ভট্টাচার্য পরিচালিত নতুন একটি চলচ্চিত্র আসছে যেখানে ব্যোমকেশকে দেখানো হবে আশি বছরের এক বৃদ্ধের চরিত্রে। প্রস্থেটিক মেকআপ করে তাঁকে দেওয়া হয়েছে এই নতুন লুক। পরিচালক দেবালয়ের নিজের লেখা এই গল্পে ছবিটিতে দ্বৈত চরিত্রে দেখা যাবে আবির চট্টোপাধ্যায়কে। আশি বছরের ব্যোমকেশ ও তার নাতি সাত্যকির চরিত্রে পর্দায় আবির্ভূত হবেন আবির। এছাড়াও সাত্যকির প্রেয়সীর চরিত্রে ছবিতে থাকছেন আগের পর্বগুলোর সত্যবতী পাঠ চুকানো সোহিনী সরকার। ছবির এই আশি বছরের ব্যোমকেশের পাশে নেই অজিত ও সত্যবতী। কিন্তু অজিত ও সত্যবতী ছাড়া কি ব্যোমকেশ চলে, তাই বিগত হলেও তারা নাকি ফ্ল্যাশব্যাকে ফিরে আসবেন এমনটাই জানিয়েছে ছবির পরিচালক।
‘রোগা হওয়ার সহজ উপায়’, ‘অভিশপ্ত নাইটি’র মতো কমেডি ছবি করে টালিগঞ্জে খ্যাতি পাওয়া পরিচালক দেবালয়ের জানালেন, বিদায় ব্যোমকেশ একটা ইমোশনাল জার্নির গল্প। বয়স হলে মানুষের মস্তিস্কের ধার কমে যায়! ব্যোমকেশের ক্ষেত্রেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। দুবছর ধরে নিরুদ্দেশ ছেলেকে খুঁজে বের করতে অসফল বৃদ্ধ ব্যোমকেশের ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি থেকেই শুরু হয় এই গল্প। এবারে অজিতের কলম নয়, নাতি সাত্যকির দৃষ্টি দিয়ে পর্দায় দর্শকরা দেখবে নতুন ব্যোমকেশকে।
মধ্যবয়সী আবির চট্টোপাধ্যায়কে প্রস্থেটিক মেকআপ করে আশিঊর্ধ্ব বৃদ্ধ রুপ এনে দিয়েছেন মুম্বাইয়ের মেকআপ শিল্পী ধনঞ্জয় প্রজাপতি ও তাঁর টিম। শ্যুটিং চলাকালীন আবিরকে বুড়ো ব্যোমকেশে রুপান্তর করতেপ্রায় চার-পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগত তাদের। মেকআপ করার চেয়েও তোলা নাকি অনেক বেশি কঠিন, এমনটাই জানিয়েছেন আবির।
শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস এর ব্যানারে নির্মিতব্য ব্যোমকেশ সিরিজের এই স্পিন অফ ছবিটির সম্প্রতি শ্যুটিং শেষ হয়েছে। ছবি মুক্তির তারিখ এখনো জানা যায়নি। মধ্যবয়সী ব্যোমকেশ তো বড়পর্দায় অনেকটাই সফল, তবে আশি বছরের ব্যোমকেশ বক্সিকে দর্শকরা কেমনভাবে গ্রহন করে সেটা নাহয় সময়ই বলে দিক!

আর্টিকেলটি দৈনিক ভোরের কাগজে পূর্বপ্রকাশিত

লেখকের অনুমতি ছাড়া সাইটে ব্যবহৃত সকল প্রকার লেখা পুনঃপ্রকাশ বেআইনি। জরুরী যোগাযোগে ইমেইলঃ altamishnabil@gmail.com

আরো পড়ুন...