২০০৯ সালে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের (আইপিএল) বসেছিলো দক্ষিন আফ্রিকায়। সেবারে ভালো পারফরমেন্সের কারনে বাংলাদেশ থেকে মাশরাফি বিন মুর্তজাকে তোলা হয়েছিলো অকশনে। পাঞ্জাবের হয়ে প্রীতি জিন্তা ও কোলকাতার হয়ে জুহি চাওলার এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছিলো মাশরাফিকে দলে ভেড়ানোর জন্যে। সেযাবৎকালের সর্বোচ্চ বিডিং সময় ২২ মিনিট শেষে ৬ লক্ষ ডলারের বিনিময়ে মাশরাফিকে কোলকাতা নাইট রাইডার্সের দলভুক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন জুহি চাওলা। বাংলাদেশে সহ ক্রিকেট বিশ্বের মিডিয়াতে মাশরাফিকে নিয়ে পড়েছিলো হইচই।
প্রথম আইপিএল আসরে কোলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে আশানুরুপ সাফল্য এনে দিতে পারেননি সৌরভ গাঙ্গুলী। তাইতো পরের আসরে তাকে রেখে নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক করা হলো ব্রেন্ডন ম্যাককুলামকে। শুরু থেকে ম্যাচের পর ম্যাচ বসিয়ে রেখে সিজনের পাক্কা ৪৮ তম ম্যাচে মাশরাফিকে নামানো হলো মাঠে। কোলকাতার তখন পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। অ্যাডাম গিলক্রিষ্টের অধিনায়কত্বে প্রতিপক্ষের নাম ডেক্কান চার্জার্স।
ডেক্কান টসে জিতে ব্যাটিং-এ পাঠালো কোলকাতাকে। প্রথমে ব্যাট করে কোলকাতা সংগ্রহ করলো ৫ উইকেটে ১৬০ রান, মিডল অর্ডারে ব্যাটিং-এ নেমে মাশরাফি ২ বলে ২ রানে অপরাজিত থাকলেন।
সংগ্রহটা নেহায়তই মন্দ ছিলোনা। ওপেনিং এ নেমে শুরুটাও দারুন করছিলো গিলক্রিষ্ট-গিবস জুটি। ১৭ তম ওভারে এসে মাশরাফি রান-আউট করে সাজঘরে ফেরালেন অ্যান্ড্রু সায়মন্ডসকে। শেষ ওভারে বল তুলে দেয়া হলো মাশরাফিকেই। স্ট্রাইকে থাকা রোহিত শর্মার দলের লক্ষ তখন ৬ বলে ২১ রান। দানবীয় এক ইনিংসে শেষ বলে ছক্কা মেরে নাটকীয়ভাবে জিতে গেলো ডেক্কান চার্জাস। কোলকাতার কাছে রইলো শুধুই হতাশা। চার ওভারের স্পেলে মাশরাফি দিলো ৫৮ রান। এরপরের দুই ম্যাচে আর মাশরাফিকে নামানো হয়নি। এভাবেই শেষ হলো মাশরাফির সংক্ষিপ্ত আইপিএল ক্যারিয়ার।
রানের খেলা টি-টোয়েন্টিতে এক ম্যাচের পারফর্মেন্স দিয়ে কোন খেলোয়াড়কে কখনই মূল্যায়ন করা যায়না। এত কাড়াকাড়ির পর চড়াদামে কেনা মাশরাফিকে কেন পয়েন্ট টেবিলের তলানীর দিকে ঠেকে গিয়ে শেষমেশ এক ম্যাচ খেলানো হলো তার যুক্তি অবশ্য মেলেনি।
সাধারনত সফল কাহিনী নিয়ে দিস্তার পর দিস্তা বিজয়গাথা লেখা হয়। তবে ব্যর্থতাও যে জীবনের বড় একটা অংশ, সেটাকে যে জীবন থেকে কোনভাবেই মুছে ফেলা যায়না, তা কিন্তু সকলেই মানবেন। আইপিএলে পুরো সিজন বসে থেকে শেষের দিকে এক ম্যাচ খেলার সুযোগ, সেই ম্যাচেই শেষ ওভারে দলকে ভরাডুবিতে ফেলা, এরপর একের পর এক ইনজুরি! কে জানতে এসব ছাপিয়ে আমাদের মাশরাফি আবারো ফিরবেন রাজার বেশে, দেশের অধিনায়ক হয়ে একের পর এক বাঘা সব দলকে সিরিজ হারিয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে যাবেন অন্য এক উচ্চতায়।
লেখকের অনুমতি ছাড়া সাইটে ব্যবহৃত সকল প্রকার লেখা পুনঃপ্রকাশ বেআইনি। জরুরী যোগাযোগে ইমেইলঃ altamishnabil@gmail.com




