ক্যারিয়ারের শুরু দিকটায় তিনি ছিলেন ভয়াবহ রকমের মাদকাশক্ত। তাইতো পাপারাজ্জিদের সামনে অধিকাংশ সময়ে ফুলহাতা শার্টে দেখা যায় তাকে। ক্যান্সারে আক্রান্ত তার মুমূর্ষু মা, যে কিনা এককালের বড়পর্দা কাপানো নায়িকা ছিলেন, তিনি তার পুত্রের প্রথম ছবির উদ্ধোধনী প্রদর্শনীতে উপস্থিত থাকার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। তবে অদৃষ্টের লিখনে ৭ মে মুক্তি পেলো ছবিটি, এর আগে ৩রা মে মারা গেলো সেই দুঃখিনী মা। মায়ের সম্মানে সেই শোটি’তে রাখা হয়েছিলো একটি খালি চেয়ার। ছবিটি সুপারহিট হলেও ছবির সেই নায়ক মায়ের মৃত্যু সইতে না পেরে ভীষণভাবে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। বাবার সান্নিধ্যে দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা শেষে অনেকটা মৃত্যুর মুখ থেকেই সুস্থ হয়ে ফেরেন তিনি। মাদক ছাড়াও অস্ত্র সংগ্রহের মত আরেক ভয়ঙ্কর নেশায় জড়িয়ে পড়ে লোকটি। মুম্বাই নগরীতে সিরিজ বোমা হামলার পর অস্ত্র মামলায় অবশেষে গ্রেপ্তার হয়ে বিভিন্ন মেয়াদে অনেকগুলো বছর জেলে কাটান তিনি। আদালতে সবাই তাকে আদর করে ডাকতেন ‘বাবা’ বলে। কারাগারের রেডিওতে একজন উপস্থাপক হিসাবে কাজ করেছেন তিনি। গারদের ভেতর বসে কাগজের ব্যাগ কিংবা ঠোঙ্গা তৈরি করে তিনি আয় করেছেন প্রতিদিন ৪৫ রূপী। ওদিকে কারাগারের বাইরে তার অভিনীত একেকটি ছবি আয় করেছে কোটি-কোটি রুপী!
কোন হাতে লেখা, মনগড়া বানিজ্যিক সিনেমার টানটান উত্তেজনাপূর্ন কোন গল্প নয়, বলছিলাম বলিউড সুপারষ্টার সঞ্জয় দত্তর জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ন ঘটনা। ৫৮ বছর বয়সী লোকটির পুরো জীবনটাই নানাভাবে ঘটনাবহুল। তাইতো তার জীবনকাহিনী থেকে নির্মিত হচ্ছে বায়োপিক চলচ্চিত্র “সঞ্জু”। ওয়ান ম্যান, মেনি লাইভস.. এমন ট্যাগলাইনের ছবিটিতে সঞ্জয় দত্তের জীবনের উত্থান পতনের সকল গল্পগুলোই একত্র করে দেখানো হবে। ভালো ছবির দর্শকদের জন্য আরেকটি আশার কারন ছবিটির পরিচালক। ছবিটি পরিচালনা করছে মুন্না ভাই সিরিজ, থ্রি ইডিয়টস কিংবা পিকে ছবির সেই বিখ্যাত পরিচালক রাজকুমার হিরানী।
সম্প্রতি অন্তর্জালে মুক্তি পেয়েছে ছবিটির প্রায় দেড় মিনিটের একটি টিজার। সঞ্জয় দত্তরুপী রণবীর কাপুরকে দেখে বারবার ভ্রম হয়েছে, টিজারে দেখতে পাওয়া মানুষটি আসলেই সঞ্জয় নাকি রণবীর, ধাঁধায় পড়েছেন ভক্ত দর্শকেরা। সেই কথা বলা থেকে শুরু করে হাঁটার ভঙ্গিমা, সবটাই যেন হুবহু সঞ্জয় দত্ত, কিন্তু আসলে কিন্তু তিনি রণবীর কাপুরই।
ছবিতে রয়েছেন আনুষ্কা শর্মা, পরেশ রাওয়াল, দিয়া মির্জা, সোনাম কাপুর, মনীষা কৌরালা, সহ আরো অনেকে। মনীষাকে দেখা যাকে সঞ্জয়ের মা নার্গিসের চরিত্রে। আর বাবা সুনীল দত্তের ভূমিকায় ছবিটিতে থাকছেন পরেশ রাওয়াল।
সঞ্জু ছবিতে রণবীরের অভিনয় দেখতে মাঝেমধ্যেই ছবির সেটে পৌছে যেতেন সঞ্জয়। পরিচালক হিরানির সঙ্গে নিজেই দেখে নিতেন নিজের চরিত্রে রণবীরের অভিনয়। নিজের সঙ্গে এতো মিল দেখে মাঝে মধ্যেই অবাক বনে যেতেন তিনি। ওদিকে শুধু শরীরের কসরত নয়, ছবিটিতে অভিনয়ের জন্য সঞ্জয় দত্তকে উপলব্ধি করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন রণবীর কাপুর। “লুক তো কোনভাবে তৈরি করাই যেত, তবে যাকে নিয়ে কাজ করছি, নিজেকে তাঁর জায়গায় বসানোর চেষ্টা করেছি আমি। নিজেকে সত্যিকারের সঞ্জয় দত্ত ভাবতে শুরু করেছিলাম”। ছবিটি নিয়ে এমনটাই বলেছে রণবীর। তার মতে ছবিটি বায়োপিক নয়, যেন মস্ত এক সায়েন্স ফিকশন! নাহয় একটা মানুষের জীবনে এত উত্থান পতন কিভাবে আসা সম্ভব!
ছবিটিতে তার স্টারডম, আকাশচুম্বি খ্যাতি, দর্শকদের ভালোবাসার পাশাপাশি আরো দেখানো হবে মাদকাসক্ত জীবন, জেল জীবন, তিন তিনটি বিয়ে সহ আরো অনেক কিছুই! কেনইবা সঞ্জয় রাজি হলেন তাঁকে নিয়ে তৈরি এমন বায়োপিকে? কারন তিনি মনে করেন ঘটনাবহুল, অমসৃন এই জীবনটিতে অনেক ভুল করেছেন তিনি। হয়েছেন অনেক ভালো মন্দের সাক্ষী। তিনি চান তার জীবন থেকে শিক্ষা নেক পরবর্তী প্রজন্ম। আগামী ২৯ জুন মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে বিধু বিনোদ চোপড়া ও রাজকুমার হিরানি প্রযোজিত চলচ্চিত্র ‘সঞ্জু’র।
আর্টিকেলটি দৈনিক ভোরের কাগজে পূর্বপ্রকাশিত
লেখকের অনুমতি ছাড়া সাইটে ব্যবহৃত সকল প্রকার লেখা পুনঃপ্রকাশ বেআইনি। জরুরী যোগাযোগে ইমেইলঃ altamishnabil@gmail.com
