ওয়ান্স আপন অ্যা টাইম ইন হলিউড-প্রিভিউ

ষাটের দশকের শেষের হলিউড। নবীন অভিনেতা রিক ডাল্টন আর তার বন্ধু স্ট্যান্ট ডাবল ক্লিফ বুথ লড়ে যাচ্ছিলেন হলিউডে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করার লড়াইয়ে। তাদের প্রতিবেশী আমেরিকান অভিনেত্রী শ্যারন টাটে সহ আরো আরো চারজন ১৯৬৯ এর গ্রীষ্মের শেষদিকে নির্মমভাবে খুন হলেন  ম্যানসন পরিবার কতৃ্র্ক।ষাটের দশকের শেষদিকে ম্যানসন পরিবার গোষ্ঠী গঠন করেন চার্লস ম্যানসন নামের এক কুখ্যাত খুনী এবং হিপি। চার্লস একজন সংগীতশিল্পী হলেও ১৯৬৯ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের জন্য কুখ্যাত খুনী হয়ে উঠেন। তার প্রথমদিকের অপরাধ ছিল গাড়ি চুরি, জালিয়াতি ও যৌনকর্মীদের দালালী।  শ্বেতাঙ্গ এই অপরাধী নিজেকে বিভিন্ন সময় পুনরুজ্জীবিত যিশুখ্রিস্ট হিসেবেও দাবি করেছেন। শোবিজের আলোচিত এই হত্যাকান্ডের ঘটনাকে ভিত্তি করে পাল্প ফিকশন, কিল বিল খ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক কোয়েন্টিন ট্যারান্টিনো নির্মান করছেন নতুন ছবি যার নাম দেয়া হয়েছে ওয়ান্স আপন অ্যা টাইম ইন হলিউড। তবে চলচ্চিত্রটিতে হত্যাকান্ড দেখানো হবে নাকি টারান্টিনো তার স্বভাবসূলভ টুইষ্ট রাখবেন তা ছবি মুক্তির পরই বোঝা যাবে।

আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে, আলোচিত এই হত্যাকান্ডের টার্গেট হিসেবে অভিনেত্রী শ্যারন টাটের নাম কখনোই ছিলোনা, সে ছিলো অনেকটা পরিস্থিতির শিকার। ঘটনার সূত্রপাত চার্লস ম্যানসন নামের এক উদীয়মান সঙ্গীতশিল্পী থেকে। সে সময়ের প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক টেরি মেলচারের সাথে চার্লসের একটি অ্যালবাম প্রকাশের কথা হয়েছিল। কিন্তু কোন এক ঘটনার পরিস্থিতিতে টেরি মেলচার চার্লস ম্যানসনকে বাজেভাবে তিরস্কার করেন। সেই অপমানবোধ থেকেই চার্লস প্রতিশোধ নেয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেয় আর টেরিকে খুন করতে সে নিয়োগ করে তার ম্যানসন পরিবারের সদস্যদের। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে চার্লস খুনিদেরকে যে ঠিকানা দিয়েছিলেন, সেটিতে টেরি মেলচার আগে থাকতেন। কিন্তু এ ঘটনার কয়েকদিন আগে সে বাসাটি টেরির কাছ থেকে কিনে নেয় প্রখ্যাত পরিচালক রোমান পোলানস্কি এবং তার স্ত্রী শ্যারেন টাটে দম্পতি। ঘটনার রাতে পোলানস্কি চলচ্চিত্র পরিচালনার কাজে ইউরোপে থাকলেও সেদিন বাসায় শ্যারেন টাটের সাথে আরও ছিলেন ডিজাইনার জেই সেবরিঙ, চিত্রনাট্যকার ওহজেকি ফ্রিকোয়োস্কি এবং তাঁর প্রেমিকা আবিগেল ফোলজার। প্রত্যেকেই সেদিন ম্যানসন পরিবার দ্বারা নৃশংসভাবে খুন হন। তখন শ্যারেন টাটে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা!

ওয়ান্স আপন অ্যা টাইম ইন হলিউড চলচ্চিত্রটিতে রিক আর ক্লিফের চরিত্র কাল্পনিক হলেও সিনেমায় তাদের ভূমিকায় দেখা যাবে লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও এবং ব্রাড পিটকে। পরিচালক মারফত জানা যায়, ছবির মূল গল্প এই দুটি কাল্পনিক চরিত্রকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে। ছবিটিতে মারগোট রবি অভিনয় করছেন শ্যারন টেটের চরিত্রে। এছাড়াও চলচ্চিত্রটির অভিনেতাদের তালিকায় রয়েছেন আল পাচিনো, ড্যাকোটা ফ্যানিং, টিমোথি অলিফ্যান্ট, ডেমিয়েন লুইস প্রমুখ।

কোয়েন্টিন ট্যারান্টিনোর দীর্ঘদিনের সঙ্গী প্রযোজক হার্ভি ওয়াইনস্টাইন যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার পর টারান্টিনো তার এই ছবির জন্য সনি পিকচার্সের দ্বারস্থ হন। হত্যার মর্মান্তিক সেই ঘটনার ৫০ বছর পূর্তিতে অর্থাৎ ২০১৯ সালের ৯ আগষ্টে চলচ্চিত্রটি মুক্তির কথা রয়েছে। বড়পর্দায় লিওনার্দো-ব্রাড জুটিকে দেখতে দর্শকদের তাই অপেক্ষা করতে হবে পাক্কা ৮ মাস!

শ্যারন টেটের হত্যাকারী ম্যানসন পরিবারের সদস্য টেক্স ওয়াটসন স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছিলেন টেটকে মারতে প্রায় ১৬ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছিলো। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত চার্লস ম্যানসন ও তার অনুসারীদেরকে দেয়া হয়েছিলো মৃত্যুদন্ডের সাজা। তবে সে রাজ্যে মৃত্যুদন্ড নিষিদ্ধ করা হলে তাদের সাজা রুপ নেয় যাবজ্জীবন কারাদন্ডে। ২০১৮ সালের ১৭ ই নভেম্বরে ৮৩ বছর বয়সে জেলখানায় সাজারত অবস্থায় স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন চার্লস ম্যানসন ।

আর্টিকেলটি দৈনিক ভোরের কাগজে পূর্বপ্রকাশিত

লেখকের অনুমতি ছাড়া সাইটে ব্যবহৃত সকল প্রকার লেখা পুনঃপ্রকাশ বেআইনি। জরুরী যোগাযোগে ইমেইলঃ altamishnabil@gmail.com

আরো পড়ুন...