সিনেমা শুরুর গপ্পঃ হলিউড ক্লাসিক (পর্ব ১)
সিনেমা শুরুর গপ্পঃ হলিউড ক্লাসিক (পর্ব ২)
আনুমানিক ১৯১৫-১৭ থেকে শুরু করে ১৯৬০-৬৯ এর সময়কালকে হলিউডের ক্লাসিক যুগ বা স্বর্ণযুগ বলে অভিহিত করেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকেরা। এ সময়ের উল্লেখযোগ্য কিছু ক্লাসিক চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনা করা হলো।
ক্যাসাব্লাঙ্কা (১৯৪২)
হলিউড তারকা হামফ্রী বোগার্ট, ইনগ্রিড বার্গম্যান জুটির ছবি ক্যাসাব্লাঙ্কাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম জনপ্রিয় চলচ্চিত্র হিসেবে গণ্য করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যখন দাদামা বাজছে তখন মরোক্কোর ক্যাসাব্লাঙ্কা শহরের প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠেছে এই চলচ্চিত্রের কাহিনী। ক্যাসাব্লাঙ্কায় এক ক্যাফের মালিক রিক এবং তার প্রাক্তন প্রেমিকার কয়েক দিনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে এ ছবিতে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন মাইকেল কার্টিজ যা নির্মান হয় নাটক এভরিবডি কামস টু রিকস অবলম্বনে। যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মান হলেও ছবিতে নেই কোন যুদ্ধের দামামা। মাত্র একটি দৃশ্য ছাড়া পুরো ছবিটিই নির্মিত হয়েছে স্টুডিও সেটে। সেরা চিত্রনাট্য, পরিচালক ও চলচ্চিত্রের অস্কার জিতে নেয় ছবিটি।
অল অ্যাবাউট ইভ (১৯৫০)
জোসেফ এল. ম্যানকিইউজ রচিত ও পরিচালিত চলচ্চিত্র অল অ্যাবাউট ইভ ম্যারি অরের ১৯৪৬ সালের দ্য উইজডব অব ইভ ছোটগল্প অবলম্বনে নির্মিত। হলিউড সিনেমা জগতের অন্ধকার এবং নোংরা দিকগুলো এ ছবিতে তুলে ধরেছেন পরিচালক। ছবিটি অস্কারের ইতিহাসের একমাত্র চলচ্চিত্র হিসেবে অভিনয় বিভাগে চারটি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করে। ছবিতে ক্লডিয়া নামের ছোট্ট এক চরিত্রে অভিনয় করেছেন তখনো তারকা খ্যাতি না পাওয়া মেরিলিন মনরো।
রোমান হলিডে (১৯৫৩)
উইলিয়াম ওয়াইলার প্রযোজিত ও পরিচালিত রোমান হলিডে চলচ্চিত্রটি মূলত বিয়োগাত্মক প্রেমের কাহিনী। ছবিটিতে কাগজের রিপোর্টার জো ব্রাডলি চরিত্রে অভিনয় করেছেন গ্রেগরি পেক এবং রাজকুমারী প্রিন্সেস অ্যান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ব্রিটিশ অভিনেত্রী অড্রে হেপবার্ন। রাজকুমারী ইউরোপের বিভিন্ন শহর দেখতে বেরোয়, কিন্তু রাজকীয় সব নিয়ম কানুনে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি পালিয়ে একা একা রোম শহর দেখতে চলে যান। এরমধ্যে তার আলাপ হয় রিপোর্টার জো ব্রাডোলির সঙ্গে যা এক সময়ে প্রণয়ে রুপ নেয়। ছবির শেষে তাদের মিলন হয়না, তবে এর মধ্যেও তারা খুঁজে নেয় আত্মতৃপ্তি। সাংবাদিকের চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে গ্রেগরি পেক সত্যিকারভাবেই এক সাংবাদিকের প্রেমে পড়ে এবং পরবর্তীকালে ভ্যারোনিকে পাসানি নামে সেই ফরাসী সেই সাংবাদিক সত্যিকার জীবনে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হন। এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্যে সেরা অভিনেত্রী বিভাগে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন অড্রে হেপবার্ন।
লেখকের অনুমতি ছাড়া সাইটে ব্যবহৃত সকল প্রকার লেখা পুনঃপ্রকাশ বেআইনি। জরুরী যোগাযোগে ইমেইলঃ altamishnabil@gmail.com
